দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই সপ্তাহ আগে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়। একই সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেন, ‘একসময় হয়তো আমাদের আর সংযত থাকার সুযোগ থাকবে না। তখন আমরা যে সামরিক অভিযান সফলভাবে শুরু করেছি, সেটি শেষ করতে বাধ্য হব। এমন হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবে ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণাগার ও মাইন স্থাপনের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। পরে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, শুক্রবার রাতেও তারা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালিতে বৃহস্পতিবার একটি কার্গো জাহাজে হামলার পর শনিবার আরও একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের ইউকেএমটিও জানায়, সর্বশেষ হামলায় ট্যাংকারটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রাও বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট।
ইরান নির্দিষ্ট কোনো হামলার দায় স্বীকার না করলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর পর অনেক জাহাজই ইরানের অনুমতি নিয়ে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদরদপ্তর থাকা বাহরাইনেও ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে তেহরান। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি এবং ইসরায়েল এখনও লেবাননের দখল করা এলাকা ছাড়েনি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলের অবস্থান বজায় থাকবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মেনে চলেছে। তার ভাষায়, ‘ইরান যদি সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো আপত্তি জানাতে চায়, তাহলে আলোচনার পথ খোলা আছে। কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতাই হবে।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/